দূরত্ব যাই হোক না কেন ফুলতলা থেকে খুলনা সিএনজিতে ভাড়া বেড়েছে স্টেশন প্রতি ৫ টাকা হারে। গাড়িতে উঠলেই ১০ টাকা হারে ভাড়া দিতে হবে যাত্রীপ্রতি। অনেকটা মড়ার উপর খাড়ার ঘা। এখন থেকে ফুলতলা হতে ডাকবাংলা ৬০ টাকা এবং ফুলতলা হতে রুপসা ৭০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে দৌলতপুর খুলনা বেবীট্যাক্সী সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, থ্রি-হুইলার ড্রাইভার ইউনিয়ন।
সিএনজি চালক কামাল হোসেন হাওলাদার (৫০) বলেন, “৩০ বছর ধরে আমি গাড়ি চালাই। প্রথম দফায় ২ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৭ টাকা, তৃতীয় দফায় ১৮ টাকা ৮০ পয়সা লিটার প্রতি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারপর আমাদের ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস মোল্যা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিদুল ইসলাম গত ৫ এপ্রিল নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা তৈরি করে দিয়েছে। সেটি আমাদের ড্রাইভাররা গাড়িতে টানিয়ে দিয়েছে। তালিকায় দেখা যায় সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। এছাড়া ফুলতলা হতে রুপসা ৭০ টাকা এবং ডাকবাংলা ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বয়রা, বৈকালী, দৌলতপুর, রেলিগেট, ফুলবাড়িগেট, শিরোমণি, আফিলগেট, পথের বাজারসহ প্রতিটি স্টেশনের ভাড়া ৫ টাকা হারে ভাড়া বৃদ্ধি করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।”
সোহেল রানা খন্দকার (৩২) অভিযোগ করে বলেন, “খুলনা থেকে ফুলতলা ২৩ কিলোমিটার রাস্তা। গত কয়েকদিন আগেও এক লিটার গ্যাস ৬১ টাকা ৮১ পয়সা দিয়ে কিনেছি। এখন অতিরিক্ত দামে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সেকারণে ইউনিয়ন থেকে মাত্র ৫টাকা যাত্রী প্রতি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।”
অপরদিকে ফুলতলার যুগ্নিপাশা এলাকার ইঞ্জিনিয়ার মফিজুল ইসলাম বলেন, ১ লিটার গ্যাস দিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা চলতে পারে। সিএনজি চালক-মালিকরা ডাকবাংলা-ফুলতলার ভাড়াটা শুধু ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করে রাখতো আর বাকি সব অপরিবর্তিত রাখতো তাহলে সেটা হতো ন্যায্য এবং যুক্তিসংগত। কোনো কিছুর দাম বাড়লে সবারই লাভ থাকে শুধু ক্ষতিটা হয় সাধারণ মানুষদের।”
খুলনা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র দিপু ব্যানার্জি বলেন, “ফুলতলা থেকে খুলনা নগর পরিবহন বাস সার্ভিস চালু একান্ত প্রয়োজন। না হলে শিক্ষার্থীরা চরম বিপদে পড়বে। আমাদের দাবি আমাদেরই আদায় করতে হবে, ছাত্র-জনতা মিলে রাজপথে নামতে হবে, টাউন সার্ভিসের দাবিতে।”
দৌলতপুর খুলনা বেবীট্যাক্সী সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, থ্রি-হুইলার ড্রাইভার ইউনিয়ন এর সভাপতি মোঃ ইলিয়াস মোল্যা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিদুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
তবে ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীদের দাবি, অবিলস্বে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে দিন দিন এদের অত্যাচার বেড়েই চলেছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

